মাদারগঞ্জে বিদ্যুৎপৃষ্টে রাজমিস্ত্রির মৃত্যু, চিকিৎসকের গাফিলতির অভিযোগ স্বজনদের

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ১০ জানুয়ারি ২০২৬ ১২:২৫ অপরাহ্ণ   |   ৯৭ বার পঠিত
মাদারগঞ্জে বিদ্যুৎপৃষ্টে রাজমিস্ত্রির মৃত্যু, চিকিৎসকের গাফিলতির অভিযোগ স্বজনদের

মোঃ আলমগীর হোসাইন হৃদয়, জামালপুর জেলা প্রতিনিধি:-


 

জামালপুরের মাদারগঞ্জে বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে এক রাজমিস্ত্রির মৃত্যু হয়েছে। নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, চিকিৎসকের গাফিলতির কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
 

নিহত যুবকের নাম হৃদয় হাসান (২৫)। তিনি মাদারগঞ্জ উপজেলার বালিজুড়ী পশ্চিমপাড়া এলাকার হাসান আলী ফকিরের ছেলে। পেশায় তিনি একজন রাজমিস্ত্রি ছিলেন এবং সেনাবাহিনীর একটি ক্যাম্পে কাজ করতেন বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।
 

স্বজনরা জানান, শুক্রবার সকালে কাজ করার সময় হৃদয় হাসান বিদ্যুৎপৃষ্ট হন। পরে তাকে দ্রুত মাদারগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সকাল প্রায় ৯টার দিকে হাসপাতালে পৌঁছালে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা না করেই তাকে মৃত ঘোষণা করেন—এমন অভিযোগ করেন নিহতের বড় ভাই।
 

নিহতের বড় ভাই বলেন, “আমার ভাই কাজ করতে গিয়ে কারেন্ট শর্ট খায়। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক ভালোভাবে পরীক্ষা না করেই মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকদের গাফিলতির কারণেই আমার ভাই মারা গেছে। হাসপাতালে ধনী রোগীদের ভালোভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়, কিন্তু গরিবদের অবহেলা করা হয়।”
 

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বিদ্যুৎপৃষ্টের ঘটনায় মৃত্যু হলে তা পুলিশ কেস হিসেবে গণ্য হয়। এ কারণে পুলিশি ঝামেলার আশঙ্কায় স্বজনরা প্রাথমিকভাবে মৃতদেহ বাড়িতে নিয়ে যান।
 

এ বিষয়ে কর্তব্যরত মেডিকেল অফিসার ডা. সালেহ মেহেদী বলেন, “সকাল ৯টার দিকে বিদ্যুৎপৃষ্ট অবস্থায় এক যুবককে হাসপাতালে আনা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার অংশ হিসেবে ব্লাড প্রেসার, পালস ও ইসিজি করা হয়। রিপোর্ট অনুযায়ী তিনি হাসপাতালে আনার আগেই মারা গেছেন বলে নিশ্চিত হওয়া যায়। এরপর রোগীর স্বজনরা মৃতদেহ দ্রুত বাড়িতে নিয়ে যান। প্রায় এক ঘণ্টা পর আবার মৃতদেহ হাসপাতালে আনা হলে পুনরায় পরীক্ষা করে একই ফল পাওয়া যায়। পরে স্বজনদের বুঝিয়ে মৃতদেহ হস্তান্তর করা হয়।”
 

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, “রোগীকে হাসপাতালে আনার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসায় কোনো গাফিলতি হয়নি।”
 

এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই সঙ্গে চিকিৎসা ব্যবস্থার মান ও দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা।