|
প্রিন্টের সময়কালঃ ০৫ মার্চ ২০২৬ ০৫:৩৩ পূর্বাহ্ণ     |     প্রকাশকালঃ ০৪ মার্চ ২০২৬ ০৯:১৭ অপরাহ্ণ

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়-এ নারী শিক্ষককে ছুরিকাঘাতে হত্যা


ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়-এ নারী শিক্ষককে ছুরিকাঘাতে হত্যা


কুষ্টিয়া প্রতিনিধি :

 

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) এক কর্মচারীর ছুরিকাঘাতে সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা নিহত হয়েছেন। বুধবার (বিকেল) প্রায় সাড়ে ৪টার দিকে থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনের ২২৬ নম্বর কক্ষে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
 

প্রত্যক্ষদর্শী ও বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের কর্মচারী ফজলুর রহমান ওই শিক্ষিকাকে ছুরিকাঘাত করেন। ঘটনার পর একই কক্ষে তিনি নিজের গলায় ছুরি চালিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।
 

সমাজকল্যাণ বিভাগ সূত্র জানায়, ফজলুর রহমান দীর্ঘদিন সমাজকল্যাণ বিভাগে কর্মরত ছিলেন। বেতন বৃদ্ধি সংক্রান্ত বিষয়ে মাসখানেক আগে বিভাগের সভাপতির সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা হয়। পরবর্তীতে তাকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে বদলি করা হয়। শিক্ষার্থীদের ধারণা, ওই ঘটনার জের ধরেই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে এ হামলা ঘটে থাকতে পারে।
 

ক্যাম্পাস সূত্র জানায়, বুধবার সমাজকল্যাণ বিভাগের ইফতার মাহফিল ছিল। বিকেল ৪টার দিকে বিভাগের সভাপতির কক্ষ থেকে চেঁচামেচির শব্দ শুনে ভবনের নিচে অবস্থানরত আনসার সদস্য ও কয়েকজন শিক্ষার্থী সেখানে গিয়ে কক্ষের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ পান। ডাকাডাকির পরও দরজা না খোলায় তারা দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় কক্ষের মেঝেতে আসমা সাদিয়া রুনাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে এবং ফজলুর রহমানকে নিজের গলায় ছুরি চালাতে দেখা যায়।
 

খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ও থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুজনকে উদ্ধার করে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেলে নেয়। পরে তাদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল-এ পাঠানো হয়।
 

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) হোসেন ঈমাম জানান, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে হাসপাতালে আনার আগেই শিক্ষক রুনার অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন ছিল। ইসিজি করার পর তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। তার গলা, হাত ও পায়ে ছুরিকাঘাতের একাধিক চিহ্ন পাওয়া গেছে।
 

ইবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদ রানা বলেন, ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষক রুনাকে মৃত ঘোষণা করেন। অভিযুক্ত কর্মচারী বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
 

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি।”
 

উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, “এই ঘটনা অকল্পনীয় ও অপ্রত্যাশিত। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”


সম্পাদকঃ সারোয়ার কবির     |     প্রকাশকঃ আমান উল্লাহ সরকার
যোগাযোগঃ স্যুইট # ০৬, লেভেল #০৯, ইস্টার্ন আরজু , শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণি, ৬১, বিজয়নগর, ঢাকা ১০০০, বাংলাদেশ।
মোবাইলঃ   +৮৮০ ১৭১১৩১৪১৫৬, টেলিফোনঃ   +৮৮০ ২২২৬৬৬৫৫৩৩
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬