দেবিদ্বার আইনশৃঙ্খলা সভায় থানার দুর্নীতি ও দালাল সিন্ডিকেট নিয়ে এমপি হাসনাতের ক্ষোভ

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৭:৩৬ অপরাহ্ণ   |   ৪৮ বার পঠিত
দেবিদ্বার আইনশৃঙ্খলা সভায় থানার দুর্নীতি ও দালাল সিন্ডিকেট নিয়ে এমপি হাসনাতের ক্ষোভ

কাজী শরীফ, কুমিল্লা উত্তর জেলা প্রতিনিধি:

 

 

দেবিদ্বার উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় পুলিশের উপস্থিতিতেই দেবিদ্বার থানার অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি ও দালাল সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক।

 

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে দেবিদ্বার উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত বিশেষ আইনশৃঙ্খলা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি হাসনাত দেবিদ্বার থানার সেকেন্ড অফিসার ও এক উপপরিদর্শককে (এসআই) ‘পুরোপুরি দুর্নীতিবাজ’ আখ্যা দেন। একই সঙ্গে থানাকে দালালমুক্ত করতে পুলিশ প্রশাসনকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। সভায় দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।

 

বক্তব্যে এমপি হাসনাত বলেন, ওসি আন্তরিক হলেও তাঁর অধীনস্থ কয়েকজন কর্মকর্তা দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিচ্ছেন না। তিনি অভিযোগ করেন, থানার সেকেন্ড অফিসার টাকা ছাড়া কোনো কাজ করেন না এবং সংশ্লিষ্ট এক এসআই ঘুষ ছাড়া ব্যবস্থা নেন না। তিনি আরও বলেন, কোনো আসামি ধরতে গেলেই আগাম তথ্য ফাঁস হয়ে যায়—ফলে কার্যত ‘চোর-পুলিশের খেলা’ চলছে।

 

সভায় গুরুতর অভিযোগ তুলে এমপি হাসনাত দাবি করেন, থানার কার্যক্রমে পুলিশের বাইরের এক ব্যক্তির অনানুষ্ঠানিক প্রভাব রয়েছে। তাঁর ভাষায়, “আপনার থানা আপনি চালান না, থানা চালায় হেলাল।” তিনি বলেন, ওই ব্যক্তি পুলিশের কোনো পদে না থেকেও নিয়মিত থানায় অবস্থান করেন এবং মামলা রুজু, এজাহার গ্রহণসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রভাব বিস্তার করেন। এ বিষয়ে প্রশাসনিক জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

 

এছাড়া দেবিদ্বার থানাকে ঘিরে সক্রিয় দালাল ও মাদক সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে বলেও অভিযোগ করেন এমপি হাসনাত। সাধারণ মানুষ থানায় যেতে ভয় পায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভুক্তভোগীরা যেন দালালের শরণাপন্ন না হয়ে সরাসরি থানায় গিয়ে ন্যায়বিচার পান—এমন পরিবেশ নিশ্চিত করা পুলিশের দায়িত্ব।

 

সভায় উপস্থিত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি সতর্ক করে বলেন, দেবিদ্বারকে দালাল ও দুর্নীতিমুক্ত করতে ব্যর্থ হলে কঠোর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অবস্থান নেওয়া হবে।