সৌদি আরবের জেদ্দায় ওআইসির (Organisation of Islamic Cooperation) পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইসরায়েলের অধিকৃত পশ্চিম তীরে অবৈধ বসতি সম্প্রসারণ এবং অ্যানেক্সেশনের পরিকল্পনার প্রতিবাদে গতকাল (২৬ ফেব্রুয়ারি) ওআইসির সদর দপ্তরে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি সম্পন্ন হয়।
বৈঠকে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কয়েকটি সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছে। ওআইসি ইসরায়েলের এসব পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে নিন্দা জানিয়েছে। একে দুই-রাষ্ট্র সমাধানের সম্ভাবনা নষ্ট করার চেষ্টা বলে সভায় চিহ্নিত করা হয়
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সব ধরনের রাজনৈতিক ও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এর অংশ হিসেবে ওআইসির পক্ষ থেকে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে প্রস্তাব উত্থাপন এবং আন্তর্জাতিক আদালতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ ছাড়া ইসলামি দেশগুলোর মধ্যে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নিয়ে ফিলিস্তিনের অধিকার রক্ষায় সমন্বয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়। সভায় আল-কুদস (জেরুজালেম)-কে ফিলিস্তিনের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে পূর্ণ সমর্থন জানানো হয়।
বৈঠকে ওআইসির বর্তমান চেয়ারম্যান ও গাম্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সভাপতিত্ব করেন। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ূন কবির বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। নির্বাচনে জয়লাভ করে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠনের পর এটিই তাঁদের প্রথম বিদেশ সফর।
এ ছাড়া পাকিস্তান, সৌদি আরব, মিশর, জর্ডান, তুরস্ক, ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিস্তিনসহ ওআইসিভুক্ত ৫৭টি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এই বৈঠকে অংশ নেন। ফিলিস্তিনের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিশ্ব সম্প্রদায়কে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তাঁরা।