|
প্রিন্টের সময়কালঃ ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৫:৪২ পূর্বাহ্ণ     |     প্রকাশকালঃ ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৮:০৪ অপরাহ্ণ

রাজশাহীতে থিম ওমর প্লাজা দখল ও লুটপাটের অভিযোগে মামলা, তদন্তের নির্দেশ পিবিআইকে


রাজশাহীতে থিম ওমর প্লাজা দখল ও লুটপাটের অভিযোগে মামলা, তদন্তের নির্দেশ পিবিআইকে


সাখাওয়াত হাসান, বিশেষ প্রতিনিধি, রাজশাহী:


 

রাজশাহী মহানগরীর একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ভবন ‘থিম ওমর প্লাজা’ দখল, সশস্ত্র হামলা, দাপ্তরিক নথিপত্র ছিনতাই এবং কোটি টাকার মালামাল লুটের অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
 

থিম রিয়েল এস্টেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজিফা হক চৌধুরীর অনুমতিক্রমে প্রতিষ্ঠানের লিগ্যাল অ্যান্ড এস্টেট অফিসার আসাদুল হক বাদী হয়ে মামলাটি করেন। গত বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বোয়ালিয়া থানা আমলি আদালতে মামলাটি দায়ের করা হলে আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে পিবিআইকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।
 

মামলায় প্রধান আসামি হিসেবে নাম উল্লেখ করা হয়েছে জাকিরুল ইসলাম (৩৮), সুমন কুমার সরকার (৩৫), আব্দুল আওয়াল (৪০) ও মো. রায়হান হোসেন (৩২)। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৮ থেকে ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
 

এজাহার সূত্রে জানা যায়, আসামি সুমন কুমার সরকার ও আব্দুল আওয়াল থিম ওমর প্লাজার সাবেক কর্মচারী ছিলেন। শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে তারা হামলা ও লুটপাটের পরিকল্পনা করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
 

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ৫ জানুয়ারি দুপুর ১২টার দিকে আসামিরা পিস্তল, লোহার রড, হাসুয়া ও ককটেলসহ দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে থিম ওমর প্লাজার সপ্তম তলায় অবস্থিত প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। এ সময় একাউন্টস অফিসার মো. ইউসুফ আলী ও লিগ্যাল অফিসার আসাদুল হকের মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে তাঁদের জিম্মি করা হয়। পরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ কেড়ে নিয়ে ড্রয়ার ও লকার ভেঙে নগদ ৬ লাখ ৭২ হাজার ৬০০ টাকা লুট করা হয়। এরপর কর্মকর্তাদের জোরপূর্বক অফিস থেকে বের করে দিয়ে অফিসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তালাবদ্ধ করে দেওয়া হয়।
 

এজাহারে আরও বলা হয়, ৫ জানুয়ারি থেকে ২২ জানুয়ারি পর্যন্ত আসামিরা মার্কেট ও অফিস দখলে রাখেন। এ সময়ে বিভিন্ন সরঞ্জাম ও মালামাল বাবদ ১ কোটি ৭ লাখ ১১ হাজার ৩৩০ টাকা লুট করা হয়। পাশাপাশি ভয়ভীতি দেখিয়ে দোকান ভাড়া ও জামানত বাবদ আরও ১২ লাখ ৪৭ হাজার ৫১৬ টাকা আদায় করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, আসামিরা প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ সফটওয়্যার ধ্বংস এবং দাপ্তরিক নথিপত্র বিনষ্ট করেছেন, যা ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠানের জন্য গুরুতর আইনি জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।
 

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত ১৪ জানুয়ারি দুপুর ১টার দিকে আসামিরা ভবনের নবম তলায় অবস্থিত কোম্পানির চেয়ারম্যানের পারিবারিক বাসভবন ‘পেন্ট হাউজে’ হামলা চালান। সেখানে গৃহকর্মীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে মারধর করে বাসার চাবি ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে ড্রয়ার ও আলমারি ভেঙে ১২ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ ৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং মূল্যবান এন্টিক সামগ্রী লুট করা হয়। এ সময় মাসিক চাঁদা না দিলে ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজিফা হক চৌধুরীকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
 

বাদী জানান, ঘটনার পর গত ১৪ জানুয়ারি বোয়ালিয়া থানায় অনলাইনে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-AS0560) করা হয়েছিল। তবে থানা পুলিশ কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না নিয়ে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেওয়ায় মামলাটি দায়ের করতে কিছুটা বিলম্ব হয়।
 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মামলার আসামি সুমন কুমার সরকার ও আব্দুল আওয়াল বলেন, মামলার বিষয়টি তাঁদের জানা নেই এবং অভিযোগগুলো সঠিক নয়। তাঁদের দাবি, তাঁরা আগে ওই প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন, পরে বিনা কারণে চাকরি থেকে বাদ দেওয়া হয়। বর্তমানে তাঁরা জাকির এন্টারপ্রাইজের আওতায় কাজ করছেন।
 

অন্যদিকে, এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে পিবিআই রাজশাহীর এসপির সরকারি নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। ফলে এ বিষয়ে তাঁর মন্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।


সম্পাদকঃ সারোয়ার কবির     |     প্রকাশকঃ আমান উল্লাহ সরকার
যোগাযোগঃ স্যুইট # ০৬, লেভেল #০৯, ইস্টার্ন আরজু , শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণি, ৬১, বিজয়নগর, ঢাকা ১০০০, বাংলাদেশ।
মোবাইলঃ   +৮৮০ ১৭১১৩১৪১৫৬, টেলিফোনঃ   +৮৮০ ২২২৬৬৬৫৫৩৩
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬