‘নারীবিদ্বেষী বক্তব্যের’ অভিযোগে জামায়াত আমিরের প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে সিইসিকে স্মারকলিপি

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৬:১৮ অপরাহ্ণ   |   ১০৯ বার পঠিত
‘নারীবিদ্বেষী বক্তব্যের’ অভিযোগে জামায়াত আমিরের প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে সিইসিকে স্মারকলিপি

নিজের ভ্যারিফায়েড এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে কর্মজীবী নারীদের সম্পর্কে ‘অবমাননাকর ও নারীবিদ্বেষী’ মন্তব্য করার অভিযোগ তুলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের প্রার্থিতা বাতিলের দাবি জানিয়েছেন ১০ নারী ও একটি নারী অধিকার সংগঠন।
 

রোববার (তারিখ উল্লেখযোগ্য) দুপুরে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) কাছে দেওয়া এক স্মারকলিপিতে তারা এ দাবি জানান। স্মারকলিপিতে জামায়াত আমিরের বক্তব্যে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।
 

স্মারকলিপিতে স্বাক্ষরকারীরা বলেন, জামায়াত আমির তার ভ্যারিফায়েড এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে কর্মজীবী নারীদের সম্পর্কে যে মন্তব্য করেছেন, তা কেবল নারীদের প্রতি চরম অবমাননাই নয়, বরং দেশের কোটি কোটি শ্রমজীবী ও আত্মমর্যাদাশীল নারীর শ্রম, সম্মান ও সামাজিক অবদানের সরাসরি অস্বীকৃতি।
 

তারা আরও উল্লেখ করেন, পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট দলের পক্ষ থেকে ওই মন্তব্যকে ‘হ্যাকিংয়ের ফল’ হিসেবে ব্যাখ্যা দেওয়া হলেও ভ্যারিফায়েড অ্যাকাউন্ট থেকে প্রকাশিত বক্তব্যের ক্ষেত্রে এমন দাবি গ্রহণযোগ্য নয়। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য, প্রামাণ্য তথ্য কিংবা স্বচ্ছ তদন্তের ফলাফল এখনো জনসমক্ষে আসেনি বলেও স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়।
 

স্মারকলিপিতে বলা হয়, শ্রমজীবী নারীদের নিয়ে প্রকাশ্যে এ ধরনের মন্তব্য সংবিধানস্বীকৃত সমতা, মানবাধিকার, নারী মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের চরম পরিপন্থি। এ ধরনের বক্তব্য নারীর প্রতি ঘৃণা, বৈষম্য ও সহিংসতার সংস্কৃতিকে উসকে দেয় এবং নারী শ্রমিকদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও কর্মপরিবেশকে হুমকির মুখে ফেলে বলেও তারা মনে করেন।
 

রাজনৈতিক নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ আসনে থাকা একজন ব্যক্তির কাছ থেকে এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় উল্লেখ করে তারা চার দফা দাবি জানান।
 

দাবিগুলো হলো—
১. অবিলম্বে ওই অবমাননাকর বক্তব্য প্রকাশ্যে প্রত্যাহার করা।
২. কর্মজীবী নারী ও নারী শ্রমিকদের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করা।
৩. ভবিষ্যতে নারীর মর্যাদা ও শ্রমকে হেয় করে এমন বক্তব্য থেকে বিরত থাকার সুস্পষ্ট অঙ্গীকার করা।
৪. নির্বাচন কমিশনের নৈতিকতা ও আচরণবিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির প্রার্থিতা বাতিল করা।

 

স্মারকলিপিতে স্বাক্ষরকারী নারীরা হলেন— ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সামিনা লুৎফা, গার্মেন্টস শ্রমিক মুক্তি আন্দোলনের সভাপতি শবনম হাফিজ, নেটওয়ার্ক ফর পিপলস অ্যাকশন (এনপিএ)-এর মুখপাত্র ফেরদৌস আরা রুমী, নারীর রাজনৈতিক অধিকার ফোরামের সংগঠক নাফিসা রায়হানা, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের নারী বিষয়ক সম্পাদক জাকিয়া শিশির, আইনজীবী ও অধিকারকর্মী তাবাসসুম মেহেনাজ মিমি, গ্রীন বাংলা গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের সভাপতি সুলতানা বেগম, জনভাষ্য-এর কেন্দ্রীয় সদস্য শামীম আরা নীপা এবং গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সদস্য মারজিয়া প্রভা।