লাইসেন্স ছাড়া সম্প্রচারে তিন বছরের কারাদণ্ড বা ৫০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ ০৯:০৮ অপরাহ্ণ   |   ৪২ বার পঠিত
লাইসেন্স ছাড়া সম্প্রচারে তিন বছরের কারাদণ্ড বা ৫০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান

ডেস্ক নিউজ-ঢাকা প্রেস

 

 


লাইসেন্স ছাড়া সম্প্রচার কার্যক্রম পরিচালনা করলে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড বা ৫০ লাখ টাকা জরিমানা, কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রেখে ‘সম্প্রচার কমিশন অধ্যাদেশ-২০২৬’-এর খসড়া প্রণয়ন করেছে সরকার। সম্প্রচার কার্যক্রমকে সুসংগঠিত ও তদারকির লক্ষ্যে এই অধ্যাদেশের আওতায় একটি স্বাধীন সম্প্রচার কমিশন গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে।

 

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় প্রণীত খসড়া অধ্যাদেশটি বর্তমানে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামতের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। আগামী ৩১ জানুয়ারির মধ্যে এ বিষয়ে মতামত জানানো যাবে।

 

খসড়া অধ্যাদেশ অনুযায়ী টেরিস্ট্রিয়াল, স্যাটেলাইট ও ক্যাবল টেলিভিশন ও রেডিও, আইপি টিভি ও রেডিও, ডিটিএইচ, এফএম ও কমিউনিটি রেডিও, ওটিটি, স্ট্রিমিং ও ভিডিও অন ডিমান্ড—সবই সম্প্রচার মাধ্যম হিসেবে গণ্য হবে। পাশাপাশি বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত অনলাইন ইনফোটেইনমেন্ট পোর্টাল, অ্যাপস ও ভিডিও স্ট্রিমিং কার্যক্রমও এই আইনের আওতায় আসবে। তবে ব্যক্তিগত সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট বা অপেশাদার কনটেন্ট এ অধ্যাদেশের বাইরে থাকবে।

 

খসড়ায় বলা হয়েছে, কমিশনের অনুমতি ও বৈধ লাইসেন্স ছাড়া সম্প্রচার কার্যক্রম পরিচালনা, সরকারের নির্দেশনা অমান্য, গোপন সামরিক বা বেসামরিক তথ্য প্রচার, অনুমোদনহীন কিংবা বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপন প্রচার করলে কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে হবে। কোনো প্রতিষ্ঠান লাইসেন্স ছাড়া সম্প্রচার চালালে বা লাইসেন্স নেওয়ার আগে কমিশনের সুপারিশ গ্রহণ না করলে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড অথবা ১০ থেকে ৫০ লাখ টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ড দেওয়া যাবে।

 

জাতীয় ইস্যু ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সরকারের নির্দেশনা মানতে ব্যর্থ হলে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। সরকারি অনাপত্তি ছাড়াই সম্প্রচার যন্ত্রপাতি আমদানি করে সম্প্রচার কার্যক্রম চালালে তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা ৫ থেকে ২০ লাখ টাকা জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে।

 

রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হতে পারে—এমন গোপন সামরিক বা বেসামরিক তথ্য প্রচার করলে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড বা এক থেকে ১০ লাখ টাকা জরিমানার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে লাইসেন্সবিহীন আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বাজি ও জুয়া, তামাক ও মদজাতীয় পণ্য কিংবা বিভ্রান্তিকর ও প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপন প্রচার করলে দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা ৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ড দেওয়া যাবে।

 

এ ছাড়া জাতীয় সংসদ ভবন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, রাষ্ট্রপতির কার্যালয়, সচিবালয়, আদালত, সেনানিবাস ও কেপিআইভুক্ত স্থাপনার দৃশ্য বিজ্ঞাপনে ব্যবহার করলে ছয় মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। এসব অপরাধে আরোপিত অর্থদণ্ড ‘পাবলিক ডিমান্ড রিকভারি অ্যাক্ট-১৯১৩’ অনুযায়ী আদায় করা হবে।

 

খসড়া অধ্যাদেশে সম্প্রচার-সংক্রান্ত অপরাধ বিচারের জন্য সরকার কর্তৃক একটি বা একাধিক সম্প্রচার ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। একজন বিচারকের সমন্বয়ে গঠিত এ ট্রাইব্যুনালে জেলা ও দায়রা জজদের মধ্য থেকে বিচারক নিয়োগ দেওয়া হবে। অভিযোগ গঠনের ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে মামলার নিষ্পত্তি করার নির্দেশনাও এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

 

এদিকে প্রস্তাবিত সম্প্রচার কমিশনের দায়িত্ব হবে সরকারি ও বেসরকারি সম্প্রচার কার্যক্রমকে একটি সুশৃঙ্খল কাঠামোর আওতায় আনা, সম্প্রচারবিষয়ক নীতিমালা ও মানদণ্ড প্রণয়ন এবং সেগুলোর যথাযথ বাস্তবায়ন তদারকি করা। কমিশন সম্প্রচার লাইসেন্স প্রদানের বিষয়ে সরকারকে সুপারিশ করবে, সম্প্রচারকারীদের জন্য আচরণবিধি ও এসওপি প্রণয়ন করবে এবং এসব নির্দেশনার বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী সরকারের কাছে আপিলের সুযোগ থাকবে।